নাটোর রানী ভবানী রাজবাড়ী
নাটোরের বনলতা সেন আসলে কে ছিলেন? নাটোরের আরেকটি দর্শনীয় স্থান হলো নাটোরের রানী ভবানী রাজবাড়ী । বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলায় অবস্থিত এই রাজবাড়ী। অনেক দূর দূর থেকে অনেক পরিদর্শক আসে এই রাজবাড়ী দর্শন করতে ।
সূচিপত্র অনেক মানুষ এই রাজবাড়ীকে পাগলা রাজবাড়ীও বলে থাকে । আজ আমরা নাটোর রানী ভবানী রাজবাড়ি সম্পর্কে জানব । রাজবাড়ীতে কি কি আছে সবকিছু আজ জানবো।
রাজবাড়ী নাটোর শহর থেকে কত দূরে অবস্থিত
নাটোর শহর থেকে একটু ভিতরে রানী ভবানী রাজবাড়ি অবস্থিত । ২০ থেকে ২৫ টাকা ভাড়া দিয়ে অটোর মাধ্যমে যাওয়া যায় এই রাজবাড়িতে । সকাল ৯ থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত এই রাজবাড়ীর গেট খোলা থাকে । দূর থেকে যদি আপনারা আসতে চান তাহলে মাধ্যমে বাসে করে এবং ট্রেনে করে আসতে পারবেন । নাটোর শহরের নেমে ওখান থেকে একটি অটোতে একটু ভেতরে গেলেই এই রাজবাড়ী ।
আরো পড়ুন ঃ নাটোর জেলার বিভিন্ন তথ্য ও ইতিহাস
রাজবাড়ী কত সালে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে
রানী ভবানীর রাজবাড়ী ১২০ একর জমির ওপর অবস্থিত । ১৭১০ খ্রিস্টাব্দে এই রাজবাড়ী প্রতিষ্ঠা করা হয় । ওই সময় পুঠিয়ার রাজা কাছ থেকে দান হিসেবে ১৮০ বিঘা জমির বিল গ্রহণ করে । সেখানে এই রাজবাড়ী এবং অন্যান্য উপস্থাপনা সব করে তোলে। এই রাজবাড়ীতে ছোট বড় আটটি ভবন রয়েছে । দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে এই ভবনগুলোকে । রানী ভবানী রাজবাড়ীকে বঙ্গ জল রাজবাড়ী ও বলা হয়ে থাকে ।
নাটোর রানী ভবানী রাজবাড়ীকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে । , ছোট তরফ আর বড় তরফ । বড় তরফকে মূলত আমরা ভবানী রাজপ্রাসাদ হিসেবে ব্যবহার করা হয় । ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ সরকার রানী রাজবাড়ীকে কেন্দ্রীয় পার্ক হিসেবে ঘোষণা করে । এ রাজবাড়ীতে রয়েছে ছোট-বর্ণ মোট ছয়টি দিঘী । তিনটি মন্দির একসময় রাজারা পূজা করতেন ।
আরো পড়ুন ঃ উত্তরা গণভবন কোন জেলায় অবস্থিত ?
রাজবাড়ীর বিবরণ
নাটোর রানী ভবানী রাজবাড়ি অনেক পুরাতন হওয়ায় অনেক ভেঙ্গে গেছে নষ্ট হয়ে গেছে অনেকটা । এই রাজবাড়িতে মাটির নিচ দিয়ে রাস্তা আছে । এই রাস্তা দিয়ে নদীর ওপাশে মন্দিরে যেত রানী পূজা দিতে । রাজবাড়ীতে এখনো রানীর অনেক স্মৃতি জড়ানো সব উপস্থাপনা আছে । তাদের ভবন গুলো এখনো আছে রানী কোথায় কাপুর শুকাতো কোথায় কি করতে এসব অনেক স্মৃতি এখনো আছে ।
রানীর হাতে রাজ্যের দায়ভার গ্রহণ
১৭৩০ সালে রামজীবনের দত্তপুত্র রামকান্তের সাথে রানী ভবনের বিয়ে হয়ে থাকে । রাজা রামজীবন মারা যাওয়ার পরে রামকান্ত রাজ্যের দায়িত্ব পায় । রামকান্ত মারা যাওয়ার পর দায়িত্ব পায় রানি ভবানী। রানী ভবানী অনেক দায়িত্বে সরকার এই রাজ্য পরিচালনা করে থাকেন । রানী ভবনের সময়কালে রাজ্য খুব ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছিল । সে খুব দায়িত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছিলেন ।
রাজবাড়ীর ভেতরে গেলে যা কিছু দেখতে পাবো
এখনো রাজবাড়ীতে ঢুকলে আগে আমাদের সেই রাজবাড়ীর মূলমহল যেটা রানী ভবানীর রাজপ্রাসাদ বলে পরিচিত ওইটা আগে দেখতে পাই । অনেক দূর দূর থেকে অনেক পর্যটক আসে এখানে ঘুরতে । অনেকে ভিডিও করে নিয়ে যায় এই স্মৃতি ময় রাজবাড়ী । রাজবাড়ীতে গেলে এখন বাহারি দোকানপাট সব বসে আছে দেখা যায় । বাচ্চারা দূর দূর থেকে ঘুরতে আসে তারা অনেক কিছু কিনে নিয়ে যায় এখান থেকে রাজবাড়ীর স্মৃতি হিসেবে রেখে দেওয়ার জন্য ।
নাটোর রানী ভবানী রাজবাড়ীতে রয়েছে বড় বড় বিশাল সবুজ গাছপালা দিয়ে ছেয়ে আছে এই রাজ বাড়ি । রাজবাড়ির ভিতরে পর্যটকদের জন্য রয়েছে একটি রেস্টুরেন্ট । বিভিন্ন দোকানপাট । রাজবাড়ী ইতিহাস নিয়ে বই এমন অনেক কিছু আছে রাজবাড়িতে। শত্রুর হাত থেকে বাঁচার জন্য দুই স্তরের বড় চৌকি দেওয়া আছে ।
আরো পড়ুন ঃ গরমের সময় ত্বকের যত্ন
রানীকে অর্ধভঙ্গেশ্বরী বলা হতো কেন
রানী ভবনের ছিলেন অনেক সুন্দরী বুদ্ধিমতী এবং উদার মনের মানুষ । খেয়ে উদারতার সাথে রাতের দায়িত্ব পালন করেছে । রানী ভবানী একাই বগুড়া সিরাজগঞ্জ নাটোর এসব জায়গার দায়িত্ব পালন করে গেছেন । তাই তাকে অর্ধেক বঙ্গেশ্বরী বলা হয়ে থাকে । তার স্বামীর মৃত্যুর পরে সে এই অর্ধ বঙ্গ শাসন করে থাকেন । এজন্যই হিন্দুরা তাকে দেবী দুর্গার সাথে তুলনা করে থাকেন ।
আমার শেষ উক্তি
নাটোর রানী ভবানী রাজবাড়ি তথা বঙ্গ জল রাজবাড়ি একটি দর্শনীয় জায়গা । এখানে রাজা রানী রাজ পরিবার সব কিছু স্মৃতি জড়িয়ে আছে । এ রাজ বাড়িতে তৎকালীন রাজাদের রানীদের সবার স্মৃতি জড়ানো সব জিনিসপত্র আছে । আপনারা আসলে খুব ভালো লাগবে । এখানে আসলে উপলব্ধি করা যাবে রানী ভবানী কিভাবে তো দায়িত্বের সাথে রাজ্য পরিচালনা করে থেকেছে । আমার জানা অল্প কিছু ভাব আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url