নাটোর জেলার ইতিহাস
নাটোরের বনলতা সেন আসলে কে ছিলেন?বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমে অঞ্চলে অবস্থিত আমাদের এই নাটোর জেলা । আজ আমরা নাটোর জেলা সম্পর্কে অনেক তথ্য জানবো ।
সূচিপত্র নাটোর জেলার আয়তন কত নাটোর জেলাতে বিখ্যাত কি কি আছে এই সব কিছুই আজকে আপনাদের জানাবো। বিখ্যাত খাবার কি আছে সবকিছু নিয়ে আজকে আমাদের লিখা চল সব জেনে নেওয়া যাক ।
নাটোর জেলার আয়তন
বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের মধ্য অবস্থিত আমাদের এই নাটোর জেলা । এই জেলার আয়তন ১৯০৫.০৫ বর্গ কিলোমিটার । আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশে নাটোর জেলা ৩৫ তম অবস্থানে অবস্থিত । নাটোর জেলা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৪ সালে ।
নাটোর জেলার নামকরণ
বিভিন্ন জনামতে জানা যায় জেলা সদরের পাশ দিয়ে যে প্রবাহমান নারদ নদী বয়ে চলেছে । এই নারদ নদীর নামের সাথে মিল রেখেই এই এই জেলার নাম নাটোর দেওয়া হয়েছে । দারদ নদীর পাশেই অবস্থিত আমাদের এই নাটোর জেলা ।
আরো পড়ুন ঃ উত্তরা গণভবন কোন জেলায় অবস্থিত
নাটোর জেলার দর্শনীয় স্থান
- উত্তরা গণভবন
- পুঠিয়া রাজবাড়ী
- রানী ভবানী রাজবাড়ী
- লালপুর গ্রিন ভ্যালি পার্ক
- চলনবিল
- হালতির বিল
এমন আরো অনেক দর্শনীয় স্থান আমাদের নাটোরে আছে । দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে উত্তরা গণভবন বেশি জনপ্রিয় ।
উত্তরা গণভবন ঃ নাটোর শহর থেকে তিন কিলোমিটার ভেতরে খুব সুন্দর মনোরম পরিবেশে অবস্থিত আমাদের এই উত্তরা গণভবন । সবুজ গাছপালা বাড়ির রং এর ফুল দিয়ে সাজানো আছে এই রাজবাড়ি । এই রাজবাড়িতে ছোট বড় সবাই আসলে মন প্রাণ ভরে যাবে । মনোরম পরিবেশে অবস্থিত নাটোরের উত্তরা গণভবন । রাজবাড়ী চারপাশে বিশাল প্রাচীর দেওয়া আছে ।
আরও পড়ুন ঃ নাটোর রানী ভবানী রাজ বাড়ি
পুঠিয়া রাজবাড়ি ঃ নাটোর জেলার আরেকটা রাজবাড়ী হল পুঠিয়া রাজবাড়ি । নাটোর জেলার আরেকটি উপজেলায় এই রাজবাড়ী অবস্থিত । এই রাজবাড়ীর পরিদর্শন করার জন্য একটি ভালো জায়গা । রাজবাড়িতেও কয়েকটি মন্দির রয়েছে ।
রানী ভবানী রাজ বাড়ি ঃনাটোর শহর থেকে একটু ভেতরে এই রাজবাড়ী অবস্থিত । এর রাজবাড়িতে আর ছোট বড় আটটি মহল রয়েছে। মহল গুলো দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে ছোট তরফ আর বড় তরফ , বড় তরফী মনো তোর রানী ভবানী রাজপ্রসাদ হিসেবে পরিচিত । রানী ভবানীর অনেক স্মৃতি জড়ানো আছে এই রাজবাড়ীতে।
লালপুর গ্রিন ভ্যালি পার্ক ঃ লালপুর গ্রীন ভ্যালি পার্ক জনপ্রিয় জায়গা । অনেক দূর দূর থেকে মানুষ আসে এখানে । বর্তমানে নাটোরের জনপ্রিয় জায়গার মধ্যে একটি হল লালপুর গ্রিন ভ্যালি পার্ক । যে কোন অনুষ্ঠানের সময় যেমন ঈদ ঈদের সময় লালপুর গ্রীন ভ্যালি পার্কে প্রচুর ভিড় হয়। সব মানুষের পছন্দের জায়গায় এটা ।
চলনবিল ঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল চলনবিল যার কিছুটা নাটোর জেলার মধ্যে পড়েছে । বর্ষাকালে অনেক দূর দূর থেকে মানুষ আসে চলন বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে । চলন বিল পাবনা সিরাজগঞ্জ ও নাটোরের মধ্য থাকা একটি জলাভূমি । বর্ষাকালে এর সৌন্দর্য বেড়ে যায় । চারদিকে শুধু পানি আর পানি ।
নাটোরের কাঁচাগোল্লা
নাটোর জেলায় দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশিও অনেক জনপ্রিয় কিছু জিনিস আছে যার জন্য নাটোর জেলা বাংলাদেশের মধ্যে একটি পরিচিতি লাভ করেছে । যেমন নাটোরের কাঁচাগোল্লা , থেকে একটি বিখ্যাত খাবারের জন্য । নাটোরে এলেই মানুষ কাঁচাগোল্লা খেতে চায় কারণ নাটোরের বিখ্যাত খাবার কাঁচাগোল্লা। কাঁচাগোল্লা সাধারণত দুধ দিয়ে তৈরি করা হয় ।
আরো পড়ুন ঃ গরমের সময় ত্বকের যত্ন
নাটোরের বনলতা সেন
নাটোর যার জন্য পুরো বাংলাদেশ এবং বিভিন্ন সাহিত্যের পরিচিতি লাভ পেয়েছে সে নাটোরের বনলতা সেন । বাংলাদেশের যেখানেই যাওয়া হোক নাটোরের বনলতা সেন এই নামটা যেন সবার খুব পরিচিত । কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় কবি বনলতা সেনকে ফুটিয়ে তুলেছেন এখান থেকেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে নাটোরের বনলতা সেন ।
নাটোরের শিক্ষা ব্যবস্থা
শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক ভালো নাটোরের । এখানে সরকারি কলেজ রয়েছে ,মহিলা কলেজ রয়েছে, বালিকা বিদ্যালয় রয়েছে , নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলেজ রয়েছে , বয়েজ স্কুল আছে প্রতিটা ইস্কু কলেজের পড়াশোনা ব্যবস্থা খুব ভালো ।
আরো পড়ুন ঃ পহেলা বৈশাখ নিয়ে প্রতিবেদন
আবহাওয়া
নাটোরের আবহাওয়া মোটামুটি ভালো নাটোর দুর্যোগ প্রবণ এলাকা নয় । কিন্তু নাটোরের সিংড়া উপজেলা মাঝে মাঝে বন্যা দেখা দেয় । নাটোর জেলার তুলনা লালপুরের তাপমাত্রা একটু বেশি থাকে । সিংড়া মূলত একটু নিচু হাওয়াতে এখানে বন্যা দেখা যায় ।
উপসংহার
নাটোর জেলা খুব সুন্দর একটি জেলা, এক জেলায় অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে । স্কুল কলেজ রয়েছে হসপিটাল রয়েছে । নাটোরের বিখ্যাত খাবার কাঁচাগোল্লা এবং বনলতা সেনের জন্য নাটোর অনেক পরিচিত লাভ করেছে । এই ছিল নাটোর জেলার বিভিন্ন তথ্য ও ইতিহাস ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url